ZAMIL ACADEMY

তার এবং তারবিহীন কমিউনিকেশন মাধ্যমের বিস্তারিত গাইড

প্রিমিয়াম সেবা পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

চ্যানেল ভিজিট করুন
ভূমিকা

ডেটা কমিউনিকেশন মাধ্যম (Data Communication Media)

উৎস থেকে গন্তব্যে ডেটা বা সিগন্যাল স্থানান্তরের জন্য প্রেরক ও প্রাপক ডিভাইসের মধ্যে যে সংযোগ স্থাপন করা হয়, তাকে কমিউনিকেশন মাধ্যম (Media) বলে। ডেটা পরিবহনের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এই মাধ্যমকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

কমিউনিকেশন মাধ্যমের প্রধান প্রকারভেদ (Diagram)

১. গাইডেড বা তার মাধ্যম (Guided Media)

ভৌত তারের মধ্য দিয়ে সিগন্যাল পরিবাহিত হয়।

Coaxial Twisted Pair Fiber Optic
২. আনগাইডেড বা তারবিহীন মাধ্যম (Unguided Media)

কোনো ভৌত তার ছাড়া বায়ুমণ্ডল বা মহাশূন্যের মাধ্যমে সিগন্যাল ছড়ায়।

Radio Wave Micro Wave Infrared
পার্ট ১

গাইডেড বা তার মাধ্যম (Guided Media)

যে মাধ্যমে ডেটা বা সিগন্যাল একটি নির্দিষ্ট ভৌত পথ বা তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে গাইডেড মাধ্যম বলে। নিচে তিনটি প্রধান তার মাধ্যমের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ক) টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল (Twisted Pair Cable)

এতে দুটি পরিবাহী তামার তারকে পরস্পর পেঁচিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে বাইরের বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় হস্তক্ষেপ বা EMI (Electromagnetic Interference) কমানো যায়। সাধারণত স্থানীয় টেলিফোন নেটওয়ার্ক এবং ল্যান (LAN - Local Area Network) সংযোগে এটি ব্যবহৃত হয়।

UTP (Unshielded Twisted Pair): তারের ওপর অতিরিক্ত কোনো ধাতব আবরণ থাকে না। সস্তা ও বহুল ব্যবহৃত।
STP (Shielded Twisted Pair): প্রতিটি জোড়া তারের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক ধাতব ফয়েল থাকে। নয়েজ কম হয়।

খ) কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবল (Coaxial Cable)

এই ক্যাবলের কেন্দ্রে একটি শক্ত তামার তার থাকে, যা ইনসুলেটর এবং জালের মতো পেঁচানো তারের আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। এটি নয়েজ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। সাধারণত ডিশ টিভি (Cable TV) নেটওয়ার্ক এবং সিসিটিভি ক্যামেরায় এটি ব্যবহৃত হয়।

কোঅ্যাক্সিয়াল ক্যাবলের গঠন কাঠামো
তামার কোর (Center Conductor) অন্টারক (Insulation) ধাতব জাল (Copper Mesh) বাইরের জ্যাকেট (Plastic Jacket)

গ) ফাইবার অপটিক ক্যাবল (Fiber Optic Cable)

এটি অত্যন্ত কাচ বা প্লাস্টিক তন্তু দ্বারা তৈরি একটি বিশেষ ক্যাবল, যার মধ্য দিয়ে ডেটা বৈদ্যুতিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলো বা আলোক রশ্মি হিসেবে পরিবাহিত হয়। এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) নীতিতে কাজ করে।

বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা: আলোর গতিতে ডেটা যায় বিধায় এর ব্যান্ডউইথ অত্যন্ত উচ্চ। এতে কোনো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্স (EMI) বা নয়েজ থাকে না। গিগাবিট স্পিড ইন্টারনেট বা সাবমেরিন ক্যাবলে এটি অপরিহার্য।
পার্ট ২

তারবিহীন মাধ্যম (Unguided Media)

ভৌত কোনো ক্যাবল বা তার ব্যবহার না করে যখন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা তরঙ্গের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে ডেটা আদান-প্রদান করা হয়, তাকে তারবিহীন মাধ্যম বলে। এর প্রধান তিনটি রূপ নিচে দেওয়া হলো:

১. রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)

৩ কিলোহার্টজ (kHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রামকে রেডিও ওয়েভ বলে। এটি সবদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে (Omnidirectional) এবং দেয়াল ভেদ করতে সক্ষম।

ব্যবহার: রেডিও ব্রডকাস্টিং, ওয়াই-ফাই

২. মাইক্রোওয়েভ (Microwave)

৩০০ মেগাহার্টজ (MHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সির সিগন্যাল হলো মাইক্রোওয়েভ। এটি সরলরেখায় ভ্রমণ করে (Unidirectional) বিধায় প্রেরক ও প্রাপক অ্যান্টেনা মুখোমুখি থাকতে হয়।

ব্যবহার: রাডার, টেলিভিশন ট্রান্সমিশন

৩. ইনফ্রারেড (Infrared)

৩০০ গিগাহার্টজ (GHz) থেকে ৪০০ টেরাহার্টজ (THz) ফ্রিকোয়েন্সি সীমার আলোক তরঙ্গ। এটি খুব স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং কোনো শক্ত দেয়াল বা বাধা ভেদ করতে পারে না।

ব্যবহার: টিভির রিমোট কন্ট্রোল, কার্ডলেস ডিভাইস

মাইক্রোওয়েভের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ

ক) টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave)

এই পদ্ধতিতে ভূ-পৃষ্ঠেই দুটি বড় টাওয়ার বা অ্যান্টেনার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। পৃথিবীর বক্রতার কারণে সাধারণত প্রতি ৩০-৫০ মাইল পর পর রিপিটার বা টাওয়ার বসাতে হয়।

খ) স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)

এতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২,২৩০ মাইল উঁচুতে মহাশূন্যে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হয়। ভূ-পৃষ্ঠের স্টেশন থেকে সিগন্যাল উপরে পাঠানোকে Uplink এবং স্যাটেলাইট থেকে নিচের স্টেশনে সিগন্যাল পাঠানোকে Downlink বলে।

বিশেষ আলোচনা ইনফ্রারেড (Infrared - IR) প্রযুক্তির বিস্তারিত

ইনফ্রারেড (Infrared) হলো এক ধরণের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ বা আলোক তরঙ্গ যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান নয়, তবে তাপ হিসেবে অনুভব করা যায়। এর ফ্রিকোয়েন্সি সীমা ৩০০ GHz থেকে ৪০০ THz এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৭৫০ ন্যানোমিটার (nm) থেকে ১ মিলিমিটার (mm) পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সুবিধাসমূহ (Advantages):
  • এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম।
  • স্বল্প দূরত্বে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড বা গতি বেশ ভালো।
  • দেয়াল ভেদ করতে পারে না বিধায় এক রুমের সিগন্যাল অন্য রুমে গিয়ে হস্তক্ষেপ বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি তৈরি করে না (অত্যন্ত নিরাপদ)।
অসুবিধাসমূহ (Disadvantages):
  • অধিক দূরত্বে ডেটা স্থানান্তরে কাজ করে না (সর্বোচ্চ ৫-১০ মিটার)।
  • প্রেরক ও প্রাপক ডিভাইসের মাঝে কোনো শক্ত বাধা থাকলে ডেটা আদান-প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
  • সূর্যের তীব্র আলো, ধোঁয়া বা কুয়াশার কারণে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

লাইন অব সাইট (Line of Sight) এবং ইনফ্রারেড সংযোগ (Diagram)

📺 টিভি রিসিভার (TV)
লাল আলোক তরঙ্গ (IR LED Waves) ⇠ ⇠ ⇠ ⇠ ⇠ ⇠ বাঁধাহীন সরল পথ আবশ্যক
🎮 রিমোট কন্ট্রোল
প্রাসঙ্গিক তথ্য

তারবিহীন জনপ্রিয় প্রযুক্তিসমূহ

প্রযুক্তির নাম IEEE স্ট্যান্ডার্ড কভারেজ এরিয়া / দূরত্ব মূল ব্যবহার
ব্লুটুথ (Bluetooth) IEEE 802.15.1 ১০ - ১০০ মিটার (WPAN) পার্সোনাল ফাইল ও অডিও ট্রান্সফার
ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) IEEE 802.11 ১০০ - ২০০ মিটার (WLAN) লোকাল এরিয়ায় ওয়্যারলেস ইন্টারনেট
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) IEEE 802.16 ১০ - ৫০ কিলোমিটার (WMAN) ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যাকবোন ও দূরপাল্লার কানেকশন
Abbreviation Dict

গুরুত্বপূর্ণ শব্দসমূহের পূর্ণরূপ (Full Forms)

LAN Local Area Network
WPAN Wireless Personal Area Network
WLAN Wireless Local Area Network
WMAN Wireless Metropolitan Area Network
EMI Electromagnetic Interference
IEEE Institute of Electrical and Electronics Engineers
Wi-Fi Wireless Fidelity
WiMAX Worldwide Interoperability for Microwave Access
IR Infrared
LED Light Emitting Diode