ZAMIL ACADEMY

কমিউনিকেশন সিস্টেম ও ডেটা কমিউনিকেশনের বিস্তারিত গাইড

প্রিমিয়াম সেবা পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।

চ্যানেল ভিজিট করুন
অধ্যায় ১

কমিউনিকেশন সিস্টেমের ধারণা (Concept of Communication System)

কমিউনিকেশন সিস্টেম (Communication System) হলো এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা যার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে নির্ভরযোগ্যভাবে তথ্য বা ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। সহজ কথায়, উৎস থেকে গন্তব্যে তথ্য পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং মাধ্যমের সামগ্রিক রূপই হলো কমিউনিকেশন সিস্টেম।

কমিউনিকেশন সিস্টেমের ৫টি মূল উপাদান (Diagram)

১. উৎস (Source)

যেমন: কম্পিউটার, ফোন (যা তথ্য তৈরি করে)

২. প্রেরক (Sender)

যেমন: মডেম (ডেটাকে সিগন্যালে রূপান্তর করে)

৩. মাধ্যম (Medium)

যেমন: ক্যাবল, ওয়াই-ফাই (যার মধ্য দিয়ে ডেটা যায়)

৪. প্রাপক (Receiver)

যেমন: রিসিভার মডেম (সিগন্যালকে আবার ডেটা বানায়)

৫. গন্তব্য (Destination)

যেমন: সার্ভার বা চূড়ান্ত গ্রাহক পিসি

পরীক্ষার জন্য টিপস:

ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের মূল উপাদান কয়টি? উত্তর হবে ৫টি। এই পাঁচটি উপাদানের ক্রম মনে রাখা জরুরি: উৎস ➔ প্রেরক ➔ মাধ্যম ➔ প্রাপক ➔ গন্তব্য।

অধ্যায় ২

ডেটা কমিউনিকেশনের ধারণা (Concept of Data Communication)

এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে নির্ভরযোগ্য উপায়ে কোনো ডেটা বা ইনফরমেশন (যেমন: টেক্সট, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি) স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকেই ডেটা কমিউনিকেশন বলে। এটি মূলত ডিজিটাল ইলেকট্রনিক সিগন্যালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

এনালগ সিগন্যাল বনাম ডিজিটাল সিগন্যাল

ডেটা আদান-প্রদানের সময় সিগন্যাল মূলত দুই ধরনের রূপ ধারণ করতে পারে:

  • এনালগ সিগন্যাল: এটি একটি কন্টিনিউয়াস বা নিরবচ্ছিন্ন তরঙ্গ (যেমন: মানুষের কণ্ঠস্বর বা টেলিফোন লাইন)।
  • ডিজিটাল সিগন্যাল: এটি ০ এবং ১ (বাইনারি) আকারে পরিবর্তিত বিচ্ছিন্ন সিগন্যাল (যেমন: কম্পিউটার ডেটা)।

মডেমের মাধ্যমে সিগন্যাল রূপান্তর

01011 ডিজিটাল
মডুলেশন

ডিজিটাল ➔ এনালগ

ডিমডুলেশন

এনালগ ➔ ডিজিটাল

মডেম (Modulator + Demodulator) এই রুপান্তরের কাজ করে থাকে।

অধ্যায় ৩

ব্যান্ডউইথ (Bandwidth)

একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে) কোনো কমিউনিকেশন চ্যানেল বা মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরিত বা পাস হতে পারে, তার হারকে ব্যান্ডউইথ (Bandwidth) বলে। একে bps (bits per second) বা বিট প্রতি সেকেন্ড এককে পরিমাপ করা হয়।

ব্যান্ডউইথের প্রকারভেদ:

১. ন্যারো ব্যান্ড (Narrow Band)

৪৫ থেকে ৩০০ bps

এটি অত্যন্ত ধীরগতির ব্যান্ড। সাধারণত টেলিগ্রাফি বা খুব পুরনো কোনো টেক্সট ভিত্তিক তথ্য প্রেরণে এটি ব্যবহৃত হতো।

২. ভয়েস ব্যান্ড (Voice Band)

সর্বোচ্চ ৯৬০০ bps

সাধারণত টেলিফোন লাইনে মানুষের কণ্ঠস্বর আদান-প্রদান করতে এবং কম্পিউটার থেকে মডেমের সাহায্যে ডেটা পাঠাতে এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

৩. ব্রডব্যান্ড (Broad Band)

১ Mbps বা তার বেশি

উচ্চ গতির ডেটা ট্রান্সমিশনের মাধ্যম। ফাইবার অপটিক ক্যাবল, স্যাটেলাইট বা ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সংযোগে ব্রডব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

পাইপ লাইনের ধারণার মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ সহজে বুঝুন (Diagram)

ন্যারো ব্যান্ড (Narrow) ৪৫ - ৩০০ bps
ধীর
ভয়েস ব্যান্ড (Voice) ৯৬০০ bps পর্যন্ত
মাঝারি গতি
ব্রডব্যান্ড (Broadband) ১ Mbps বা তার বেশি (অসীম গতি)
হাই স্পিড হাইওয়ে (Ultra High Speed) >>>
অধ্যায় ৪

ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Data Transmission Method)

প্রেরক থেকে প্রাপক ডিভাইসে ডেটা বিটগুলোর বিন্যাস বা স্থানান্তরের পদ্ধতিকে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলে। মূলত বিটের সিনক্রোনাইজেশন (Synchronization) বা সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে ডেটা মেথড নির্ধারণ করা হয়। এটি প্রধানত ২ প্রকার:

ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডের প্রকারভেদ

১. প্যারালাল বা সমান্তরাল (Parallel)

এখানে একাধিক লাইনের মাধ্যমে একই সাথে অনেকগুলো বিট (সাধারণত ৮ বিট বা ১ বাইট) আদান-প্রদান করা হয়। এটি খুব দ্রুতগতির কিন্তু দূরবর্তী সংযোগের জন্য অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

প্রেরক প্রাপক
১ ──────────────────➔ ১
০ ──────────────────➔ ০
১ ──────────────────➔ ১
(একই সাথে একাধিক বিট যায়)

২. সিরিয়াল বা ধারাবাহিক (Serial)

এখানে মাত্র একটি ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে একের পর এক বিট ক্রমানুসারে প্রেরিত হয়। খরচ কম হওয়ায় দূরপাল্লার ডেটা আদান-প্রদানে এটিই বেশি ব্যবহৃত হয়।

প্রেরক প্রাপক
১ ➔ ০ ➔ ১ ➔ ০ ➔ ১ ➔ ০
(একটি লাইনে একে একে বিট যায়)

সিরিয়াল ট্রান্সমিশনের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকারভেদ

ক) এসিনক্রোনাস (Asynchronous)

যেকোনো সময়ে প্রেরক ডেটা পাঠাতে পারে। এখানে প্রতিবার ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার (৮ বিট) পাঠানো হয়। সাথে ১টি স্টার্ট বিট ও ১-২টি স্টপ বিট যুক্ত থাকে। প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না।

খ) সিনক্রোনাস (Synchronous)

ডেটা ব্লক বা ফ্রেম (৮০ থেকে ১৩২ ক্যারেক্টার) আকারে দলবদ্ধভাবে পাঠানো হয়। এর গতি অনেক বেশি। এখানে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে একটি ক্লক স্পিড বা সময় সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হয়।

গ) আইসোক্রোনাস (Isochronous)

এটি সিনক্রোনাস ও এসিনক্রোনাসের মিশ্র রূপ। এতে দুটি ব্লকের মাঝখানের ট্রান্সমিশন সময় বা বিরতি সর্বদা শূন্য (০) বা একদম সমান রাখা হয়। মূলত রিয়েল-টাইম অডিও-ভিডিও ট্রান্সমিশনে এটি ব্যবহৃত হয়।

অধ্যায় ৫

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড (Data Transmission Mode)

ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিক বা ডিরেকশনকে (Direction) ডেটা ট্রান্সমিশন মোড বলে। ডেটা কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হবে তার ওপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

১. সিমপ্লেক্স (Simplex)

একমুখী ডেটা প্রবাহ

এখানে ডেটা শুধুমাত্র একমুখী প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ, প্রেরক শুধু ডেটা পাঠাতে পারবে কিন্তু ফেরত গ্রহণ করতে পারবে না। প্রাপক শুধু গ্রহণ করবে।
উদাহরণ: রেডিও, টেলিভিশন, কিবোর্ড থেকে কম্পিউটার।

Simplex Flow
কিবোর্ড (A) পিসি (B)
২. হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)

উভয়মুখী কিন্তু এক সময়ে একটি মাত্র প্রবাহ

এখানে উভয় দিক থেকেই ডেটা পাঠানো যায়, তবে একই সময়ে বা একসাথে সম্ভব নয়। একজন কথা বলা শেষ করার পরই অপরজন ডেটা পাঠাতে পারবে।
উদাহরণ: ওয়াকি-টকি (Walkie-Talkie)।

Half-Duplex Flow
ওয়াকি (A)
অপেক্ষা
টকি (B)
৩. ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)

একই সময়ে একই সাথে উভয়মুখী প্রবাহ

এখানে একই সাথে উভয় ডিভাইস থেকে ডেটা পাঠানো এবং গ্রহণ করা সম্ভব। এতে কোনো অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না।
উদাহরণ: মোবাইল ফোন, ল্যান্ডফোন, ভিডিও কল।

Full-Duplex Flow
মোবাইল (A) মোবাইল (B)
অধ্যায় ৬

প্রাপকের সংখ্যা ও অধিকারের ভিত্তিতে প্রকারভেদ

কমিউনিকেশনে একই সাথে কতজন ডেটা গ্রহণ করতে পারবে তার ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সমিশন মোডকে নিম্নোক্ত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ইউনিকাস্ট (Unicast)

১ জন প্রেরক থেকে মাত্র ১ জন নির্দিষ্ট প্রাপকের নিকট ডেটা পাঠানো হয়। (One-to-One)

P
R
X
Y
২. ব্রডকাস্ট (Broadcast)

১ জন প্রেরক থেকে নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল প্রাপকের নিকট ডেটা পাঠানো হয়। (One-to-All)

P
R1
R2
R3
৩. মাল্টিকাস্ট (Multicast)

১ জন প্রেরক থেকে নেটওয়ার্কের একটি নির্দিষ্ট দলের (Group) সবার নিকট ডেটা পাঠানো হয়। (One-to-Group)

P
G
G
X