মোবাইল যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রজন্ম (Mobile Generations)
মোবাইল যোগাযোগ (Mobile Communication) হলো এমন এক তারবিহীন ব্যবস্থা যেখানে ব্যবহারকারী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের সময়ও রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ভয়েস এবং ডেটা আদান-প্রদান করতে পারেন। মোবাইল ফোনের বিবর্তনের ইতিহাসকে মূলত পাঁচটি প্রজন্মে (Generations) ভাগ করা হয়।
মোবাইল প্রজন্মের বিবর্তন টাইমলাইন (Diagram)
| বৈশিষ্ট্য | প্রথম প্রজন্ম (1G) | দ্বিতীয় প্রজন্ম (2G) | তৃতীয় প্রজন্ম (3G) | চতুর্থ প্রজন্ম (4G) |
|---|---|---|---|---|
| সিগন্যাল মোড | এনালগ (Analog) | ডিজিটাল (Digital) | ডিজিটাল | ডিজিটাল |
| মূল প্রযুক্তি | FDMA | TDMA, CDMA, GSM | WCDMA, HSPA | LTE, WiMAX |
| ডেটা স্পিড | ২.৪ kbps | ৬৪ kbps পর্যন্ত | ২ Mbps থেকে ২১ Mbps | ১০০ Mbps থেকে ১ Gbps |
| প্রধান সুবিধা | ভয়েস কল সুবিধা শুরু | SMS, রোমিং নিরাপত্তা | ভিডিও কল ও ইন্টারনেট | উচ্চগতির লাইভ স্ট্রিমিং |
কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা ও উদ্দেশ্য
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (Computer Network) হলো এমন একটি সংযোগ ব্যবস্থা যেখানে দুই বা ততোধিক কম্পিউটার এবং অন্যান্য পেরিফেরাল হার্ডওয়্যার কোনো মাধ্যমের সাহায্যে একসঙ্গে যুক্ত থাকে।
নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য ও কাজ:
- ✔ হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ারিং: নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি মাত্র দামি প্রিন্টার বা স্ক্যানার একাধিক কম্পিউটারে শেয়ার করা যায়, যা খরচ কমায়।
- ✔ সফটওয়্যার ও ফাইল শেয়ারিং: সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে যেকোনো ফাইল বা ডেটাবেজ একযোগে সকল ইউজার ব্যবহার করতে পারেন।
- ✔ তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা: ডেটা হারিয়ে যাওয়া রোধে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যাকআপ ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হয়।
- ✔ যোগাযোগ বা ই-মেইল: খুব দ্রুত কোনো নোটিশ, ই-মেইল বা মেসেজ পুরো অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
সার্ভার-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক শেয়ারিং মডেল (Diagram)
সার্ভার ডেটা এবং হার্ডওয়্যারকে ম্যানেজ করে ক্লায়েন্টদের সুবিধা দেয়।
ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ
নেটওয়ার্কটি কত বড় এলাকা জুড়ে বিস্তৃত তার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:
পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
কোনো ব্যক্তির চারপাশে ১ থেকে ১০ মিটারের মধ্যে তৈরি নেটওয়ার্ক। যেমন: ব্লুটুথ সংযোগ।
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
একটি স্কুল, কলেজ বা বহুতল ভবনের ভেতরের ডিভাইসগুলোর নিজস্ব সংযোগ। যেমন: ল্যাব নেটওয়ার্ক।
মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক
একটি নির্দিষ্ট বড় শহর বা পৌর এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক। যেমন: ক্যাবল টিভি বা ডিশ নেটওয়ার্ক।
ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক
দেশ-দেশান্তর বা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
নেটওয়ার্কিংয়ের মৌলিক উপাদান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি
একটি আদর্শ ও কার্যকর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ল্যান (LAN) স্থাপনের জন্য যে সকল ভৌত ডিভাইস এবং হার্ডওয়্যার উপাদানের প্রয়োজন হয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)
কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে ল্যান তারের সাথে যুক্ত করার জন্য এই মাদারবোর্ড বিল্ট-ইন বা এক্সটার্নাল কার্ডটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
২. হাব এবং সুইচ (Hub & Switch)
হাব ও সুইচ হলো কেন্দ্রীয় সংযোগকারী ডিভাইস যা একাধিক কম্পিউটারকে এক সুতোয় বাঁধে। সুইচ হাবে তুলনায় বুদ্ধিমান ডিভাইস, কারণ এটি নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠায়।
৩. রাউটার (Router)
ভিন্ন ভিন্ন প্রোটোকল যুক্ত দুটি নেটওয়ার্ককে (যেমন: লোকাল নেটওয়ার্ক এবং গ্লোবাল ইন্টারনেট) যুক্ত করতে এবং ডেটা পাঠানোর সংক্ষিপ্ততম পথ নির্ধারণে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪. মডেম (Modem)
টেলিফোন লাইনের এনালগ সিগন্যালকে কম্পিউটারের ডিজিটাল সিগন্যালে (এবং বিপরীত উপায়ে) রূপান্তরের জন্য মডেম অত্যন্ত জরুরি উপাদান।
৫. গেটওয়ে এবং ব্রিজ (Gateway & Bridge)
ব্রিজ একই প্রোটোকলের ছোট ছোট নেটওয়ার্ক পার্টকে একত্রিত করে। অন্যদিকে, গেটওয়ে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রোটোকলের স্বতন্ত্র নেটওয়ার্কের মাঝে গেট বা দেয়াল হিসেবে কাজ করে।
৬. রিপিটার (Repeater)
তারের মধ্য দিয়ে অনেক দূর ডেটা যাওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়া সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই বা পুনরুত্পাদন করে তার শক্তি বাড়ানোর জন্য রিপিটার ব্যবহার করা হয়।