ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন (Wireless Communication)
কোনো প্রকার ভৌত তার বা ক্যাবলের সংযোগ ছাড়াই দূরবর্তী দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে তথ্য বা ডেটা আদান-প্রদান করার পদ্ধতিকে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন (Wireless Communication) বা তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে। এটি মূলত তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের (যেমন: রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ) সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনের প্রয়োজনীয়তা:
ব্লুটুথ (Bluetooth)
ব্লুটুথ (Bluetooth) হলো স্বল্প দূরত্বে (সাধারণত ১০ থেকে ১০০ মিটার) ডেটা আদান-প্রদানের জন্য একটি জনপ্রিয় তারবিহীন প্রযুক্তি। এটি একটি ক্ষুদ্রাকৃতির তারবিহীন নেটওয়ার্ক বা WPAN (Wireless Personal Area Network) তৈরি করে। এটি IEEE 802.15.1 স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে এবং ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
পিকানেট (Piconet): ব্লুটুথ মাস্টার ও স্লেভ সংযোগ (Diagram)
- অটোমেটিক কনফিগারেশন (ডিভাইস কাছাকাছি আসলেই কানেক্ট করা যায়)।
- দেয়াল বা সামান্য বাধা সিগন্যালে বড় কোনো প্রভাব ফেলে না।
- ব্যাটারি বা বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত কম।
তারবিহীন মাউস, কিবোর্ড, হেডফোন, স্পিকার এবং এক ফোন থেকে অন্য ফোনে ফাইল স্থানান্তরে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)
ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) এর পূর্ণরূপ হলো Wireless Fidelity। এটি একটি উচ্চগতির তারবিহীন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WLAN (Wireless Local Area Network) প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে (সাধারণত ১০০ মিটার) একাধিক ডিজিটাল ডিভাইসকে উচ্চগতির ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করা যায়। এর স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.11।
ওয়াই-ফাই হটস্পট নেটওয়ার্ক মেকানিজম (Diagram)
- এটি ২.৪ GHz এবং ৫ GHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করে।
- সুরক্ষার জন্য এতে WPA (Wi-Fi Protected Access) পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।
- একটি মাত্র রাউটার দিয়ে পুরো বাড়ি বা অফিসকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যায়।
দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হলে ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড কমে যায়।
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) এর পূর্ণরূপ হলো Worldwide Interoperability for Microwave Access। এটি একটি দূরপাল্লার উচ্চগতির তারবিহীন মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WMAN (Wireless Metropolitan Area Network) প্রযুক্তি। এটি মূলত একটি পুরো শহর বা বড় কোনো অঞ্চল জুড়ে তারবিহীন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এর আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.16।
ওয়াইম্যাক্সের মূল সুবিধাসমূহ:
- বিশাল কভারেজ: একটি ওয়াইম্যাক্স বেস স্টেশন থেকে প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব।
- উচ্চ ব্যান্ডউইথ: এটি প্রতি সেকেন্ডে ৭০ মেগাবিট (Mbps) বা তার চেয়ে বেশি গতিতে ডেটা পাঠাতে পারে।
- কাজের ধরন: এটিতে মূলত দুটি অংশ থাকে—একটি ওয়াইম্যাক্স টাওয়ার (Base Station) এবং গ্রাহকের প্রান্তে থাকা ওয়াইম্যাক্স রিসিভার।
ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্সের দূরত্বভিত্তিক কভারেজ ডায়াগ্রাম
বর্তমানে ওয়াইম্যাক্সের স্থানটি মূলত ফোর-জি (4G LTE) এবং ফাইভ-জি (5G) মোবাইল নেটওয়ার্ক দখল করে নিয়েছে।
ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্সের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | ব্লুটুথ | ওয়াই-ফাই | ওয়াইম্যাক্স |
|---|---|---|---|
| নেটওয়ার্কের প্রকার | WPAN | WLAN | WMAN |
| IEEE স্ট্যান্ডার্ড | 802.15.1 | 802.11 | 802.16 |
| কভারেজ বা পরিধি | ১০ - ১০০ মিটার | ১০০ - ২০০ মিটার | ১০ - ৫০ কিলোমিটার |
| ডেটা ট্রান্সফার গতি | ১ - ৩ Mbps | সর্বোচ্চ ১+ Gbps পর্যন্ত | সর্বোচ্চ ৭০+ Mbps |
| মূল ব্যবহার | পার্সোনাল পেরিফেরাল সংযোগ | অফিস/হোম ইন্টারনেট | শহর জুড়ে ব্রডব্যান্ড ব্যাকবোন |